হিসাবের সফটওয়্যারের জন্য কেমন কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও প্রিন্টার লাগে
হিসাবের সফটওয়্যার চালাতে দামি কম্পিউটার লাগে না, কিন্তু সবচেয়ে সস্তাটাও চলে না। কাজ চালানোর মতো একটা তালিকা দাঁড়ায় এরকম: Core i5 প্রসেসর, ৮ জিবি র্যাম, ২৪০ জিবি বা তার বেশি SSD, ২১ ইঞ্চির মনিটর, একটা UPS, কমপক্ষে ১০ Mbps অপটিক্যাল ফাইবার ইন্টারনেট, আর বিল-চালানের জন্য একটা লেজার প্রিন্টার। নিচে প্রতিটার পেছনের কারণ আর কোথায় টাকা বাঁচানো যায় আর কোথায় বাঁচাতে গেলে পরে বেশি খরচ হয়, সেটা বলা আছে।
কম্পিউটার — কী দেখে কিনবেন
প্রসেসর। Core i5 বা i7 নিন। Core i3 এড়িয়ে চলুন — চলবে, কিন্তু দিনের ব্যস্ত সময়ে যখন একসঙ্গে বিক্রি, স্টক আর রিপোর্ট খোলা থাকে তখন অপেক্ষা করতে হবে, আর সেই অপেক্ষাটা দিনে পঞ্চাশবার হয়। ১২তম প্রজন্ম বা তার পরের i3 কিছু ক্ষেত্রে চালানো যায়, তবে সেটা ব্যতিক্রম, নিয়ম নয়।
র্যাম। কমপক্ষে ৮ জিবি। এর নিচে নামবেন না। র্যাম বাড়ানো পরে করা যায় এবং তুলনামূলক সস্তা, তাই বাজেট আটকে গেলে এই জায়গাটাই পরে বাড়ানোর জন্য রেখে দিন।
স্টোরেজ। এখানেই সবচেয়ে বেশি ভুল হয়, এবং এখানেই সবচেয়ে বেশি পার্থক্য। নতুন কম্পিউটার কিনলে ২৪০ জিবির নিচে SSD নেবেন না। পছন্দের ক্রমটা হলো — NVMe M.2 SSD সবচেয়ে ভালো, তারপর SATA SSD, আর সবশেষে সাধারণ HDD।
পুরনো HDD-ওয়ালা একটা কম্পিউটারে শুধু SSD লাগিয়ে দিলে যত দ্রুত হয়, প্রসেসর বদলে তত হয় না। কম্পিউটার "স্লো" লাগার সবচেয়ে সাধারণ কারণ প্রসেসর নয়, ডিস্ক।
গ্রাফিক্স কার্ড লাগে না। হিসাবের সফটওয়্যারে আলাদা গ্রাফিক্স কার্ডের কোনো কাজ নেই। দোকানদার এটা ধরিয়ে দিতে চাইলে টাকাটা SSD বা মনিটরে দিন।
মনিটর। ২১ ইঞ্চি বা তার বড়। ছোট পর্দায় রিপোর্টের কলামগুলো একসঙ্গে দেখা যায় না, ফলে ডানে-বামে টানতে হয় আর সংখ্যা মেলাতে ভুল হয়। IPS বা OLED পর্দা চোখের জন্য আরামদায়ক — যে মানুষটি দিনে আট ঘণ্টা এর সামনে বসে থাকবেন, এটা তাঁর জন্য।
UPS। এটাকে বাড়তি খরচ ভাববেন না। লোডশেডিং বা হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সময় চালু কম্পিউটার বন্ধ হয়ে গেলে ডিস্কের ক্ষতি হয়, আর যে এন্ট্রিটা হাতে ছিল সেটা যায়। UPS থাকলে কম্পিউটার অনেক বেশি দিন টেকে।
নতুন না সেকেন্ড হ্যান্ড? নতুন কিনতে পারলে ভালো। তবে ভালো অবস্থার সেকেন্ড হ্যান্ড ডেস্কটপও দিব্যি চলে — সেক্ষেত্রে টাকাটা বাঁচিয়ে নতুন একটা SSD আর একটা UPS কিনে নিন, ওই দুটোতেই সবচেয়ে বেশি লাভ।
ইন্টারনেট — কেন ফাইবার
গতি। কমপক্ষে ১০ Mbps। বেশি হলে ভালো, তবে ১০ থেকে ২০-তে যাওয়ার পার্থক্য যত, ৫ থেকে ১০-এ যাওয়ার পার্থক্য তার চেয়ে অনেক বেশি।
অপটিক্যাল ফাইবার নিন, সাধারণ তার নয়। কারণ তিনটি, আর তিনটিই বাংলাদেশের বাস্তবতা।
প্রথমত, নিরাপত্তা। ফাইবারের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ যায় না, আলো যায়। বজ্রপাতের সময় সাধারণ তামার তার দিয়ে ঝটকা এসে রাউটার আর কম্পিউটারের পোর্ট পুড়ে যাওয়ার ঘটনা প্রতি বর্ষায় ঘটে। ফাইবারে সেই পথটাই নেই।
দ্বিতীয়ত, বৃষ্টি। তামার তারের জোড়ায় পানি ঢুকলে সংযোগ ঝিরঝির করে — আর সেটা ঠিক তখনই হয় যখন আপনি ব্যস্ত।
তৃতীয়ত, টেকসই। ফাইবার লাইন কম নষ্ট হয়, ফলে বছরে ISP-কে কম ডাকতে হয়।
Wi-Fi রাউটার। কেনার সময় দুটো জিনিস দেখুন — ডুয়াল ব্যান্ড, আর 5GHz সাপোর্ট (বাক্সে অনেক সময় শুধু "5G" লেখা থাকে, এটা মোবাইলের 5G নয়)। কাউন্টারের কাছের কম্পিউটারগুলো 5GHz-এ দিন, দূরের ফোনগুলো 2.4GHz-এ — এতে ভিড়ের সময় গতি ধরে রাখা যায়।
তারের সকেট কম পড়লে আরেকটা রাউটার না কিনে একটা নেটওয়ার্ক সুইচ কিনুন। সস্তা, এবং তারের সংযোগ Wi-Fi-এর চেয়ে সবসময় স্থিতিশীল — যে কম্পিউটারে সারাদিন কাজ হয় সেটা তার দিয়েই জুড়ুন।
সংযোগ হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে
একটা সমস্যা আছে যেটা অনেকে ধরতে পারেন না, তাই আলাদা করে বলছি। কিছু ISP তাদের নেটওয়ার্কে ফিল্টার বসিয়ে রাখে, এবং সেই ফিল্টারে মাঝে মাঝে সাধারণ ব্যবসায়িক সফটওয়্যারের সংযোগও আটকে যায়। তখন ফেসবুক-ইউটিউব চলে, কিন্তু আপনার হিসাবের সফটওয়্যার খোলে না — ফলে মনে হয় সফটওয়্যারের সমস্যা।
এমন হলে ISP-কে ফোন করে বলুন ফিল্টারটা তুলে দিতে। সাধারণত এক ফোনেই হয়ে যায়।
সাময়িক সমাধান হিসেবে মোবাইল ডাটা দিয়ে চালিয়ে নিন। এই কারণেই একটা Wi-Fi ডঙ্গল বা একটা পুরনো ফোন হটস্পটের জন্য হাতের কাছে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ — বছরে দুই-তিন দিন লাগে, কিন্তু ওই দিনগুলোতে খুব লাগে।
প্রিন্টার — লেজার নিন
বিল, চালান, কোটেশন আর রিপোর্ট — এগুলোর জন্য লেজার প্রিন্টার। সাদা-কালো লেজারই যথেষ্ট।
কেন লেজার। কম নষ্ট হয়, দীর্ঘদিন সার্ভিস দেয়, আর প্রতি পাতার খরচ কম। কালি শেষ হলে টোনার বদলাতে হয়, যেটা বছরে একবার-দুইবারের ব্যাপার।
সবচেয়ে সস্তা প্রিন্টারটা কিনবেন না। কম দামের প্রিন্টারে কাগজ আটকায়, ছাপা হালকা আসে, আর সার্ভিসিং-এ যে টাকা যায় সেটা দুই বছরে দামের পার্থক্য ছাড়িয়ে যায়। ২০২৬ সালের বাজারে মোটামুটি ধরে নিতে পারেন, ১০,০০০ টাকার নিচে ব্যবসায় প্রতিদিন চালানোর মতো প্রিন্টার সাধারণত পাওয়া যায় না।
ইঙ্কজেট কখন? শুধু যদি রঙিন ছাপা লাগে। মাথায় রাখবেন, কার্টিজ নষ্ট হলে নতুন কার্টিজের দাম অনেক, আর কম ব্যবহারে কার্টিজ শুকিয়ে যায় — মাসে দুইবার ছাপার জন্য ইঙ্কজেট কিনলে সেটাই হবে।
Wi-Fi প্রিন্টার জরুরি নয়। সাধারণ প্রিন্টারও নেটওয়ার্কে শেয়ার করে একাধিক কম্পিউটার থেকে ব্যবহার করা যায় — শর্ত শুধু, প্রিন্টার যে কম্পিউটারে লাগানো সেটা চালু থাকতে হবে। এই টাকাটা বাঁচিয়ে ভালো মানের প্রিন্টার নেওয়া বেশি কাজে দেয়।
কাগজ। ৮০ GSM-এর নিচে নামবেন না — পাতলা কাগজে ছাপা এপাশ-ওপাশ দেখা যায় এবং প্রিন্টারে আটকায়। ১০০ GSM-এ ছাপা সবচেয়ে ভালো আসে। চালান বা কোটেশনের জন্য নিজেদের প্যাড ছাপিয়ে নিলে কাগজটা দেখতেও ভালো লাগে, আর প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানা প্রতিবার ছাপতে হয় না।
যা কিনতেই হবে, আর যা পরে কিনলেও চলে
বাজেট একবারে না থাকলে এই ক্রমে এগোন। প্রথমে SSD আর ৮ জিবি র্যাম, কারণ এই দুটো ছাড়া প্রতিদিনের কাজে বিরক্তি লাগবে। তারপর UPS আর ফাইবার ইন্টারনেট, কারণ এই দুটো ক্ষতি ঠেকায়। তারপর ভালো প্রিন্টার। সবশেষে বড় মনিটর — উপকার আছে, কিন্তু ছাড়া চলে।
সংক্ষেপে
Core i5, ৮ জিবি র্যাম, ২৪০ জিবি SSD, ২১ ইঞ্চি মনিটর, UPS, ১০ Mbps ফাইবার ইন্টারনেট, ডুয়াল ব্যান্ড রাউটার আর একটা সাদা-কালো লেজার প্রিন্টার — এতেই একটা পাইকারি ব্যবসার হিসাব নির্বিঘ্নে চলে। দামি কিছু লাগে না, কিন্তু সবচেয়ে সস্তা জিনিসগুলো কিনলে টাকাটা দুইবার খরচ হয়।
আমাদের সফটওয়্যার ক্যালভেন্টরি কম্পিউটার আর অ্যান্ড্রয়েড ফোন — দুটোতেই চলে, তাই মালিক দোকানের বাইরে থেকেও হিসাব দেখতে পারেন। কী কী রিপোর্ট পাওয়া যায় আর কোনটা কখন লাগে, সেটা আমাদের ব্লগে আলাদা করে লেখা আছে।
আপনার দোকানে এখন কী কী আছে সেটা বলুন, কী কিনতে হবে আর কী হবে না — সেটা আমরা বলে দিতে পারি। 01717238363 নম্বরে ফোন করুন, অথবা আমাদের বার্তা পাঠান। সাধারণ প্রশ্নের উত্তর এখানে দেওয়া আছে।