Autorior Technologies
Autorior Technologies

Blog

মুশক ৬.৩ কর চালানপত্র কী এবং কীভাবে তৈরি করবেন

Autorior Technologies
Wednesday, July 29, 2026
ভ্যাট ও কমপ্লায়েন্স

মুশক ৬.৩ হলো ভ্যাট আইনে নির্ধারিত কর চালানপত্র — নিবন্ধিত কোনো প্রতিষ্ঠান পণ্য বা সেবা সরবরাহ করলে ক্রেতাকে যে চালান দিতে বাধ্য। এটি দোকানের সাধারণ ক্যাশ মেমো নয়। ঘরের নাম, কলামের সংখ্যা এবং তাদের ক্রম সরকার নির্ধারণ করে দিয়েছে, এবং ঠিক সেই ফরমেই দিতে হয়। নিচে ফরমটিতে কী কী থাকে, কখন দেওয়া বাধ্যতামূলক, কোন ভুলগুলোতে চালান আইনত ত্রুটিপূর্ণ হয়ে যায়, আর হাতে-লেখা প্যাডের বদলে সফটওয়্যার দিয়ে কীভাবে তৈরি করবেন — সব ধরে ধরে বলা আছে।

আইনি ভিত্তি কোথায়

কর চালানপত্র দেওয়ার বাধ্যবাধকতা এসেছে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর ধারা ৫১ থেকে। ফরমটির চেহারা নির্ধারিত হয়েছে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬ এর বিধি ৪০ এর উপ-বিধি (১) এর দফা (গ) ও দফা (চ) অনুযায়ী।

এই লাইনটাই ফরমের মাথায় ছাপা থাকে — বিধি ৪০ এর উপ-বিধি (১) এর দফা (গ) ও দফা (চ) দ্রষ্টব্য। আপনার প্যাডে বা সফটওয়্যারের প্রিন্টে যদি এটি না থাকে, তাহলে যে কাগজটা দিচ্ছেন সেটা নির্ধারিত ফরম নয়।

কয় কপি, আর কতদিন রাখতে হয়

চালানপত্র কমপক্ষে দুই কপি করতে হয় — মূল কপি ক্রেতাকে, আরেকটি কপি বিক্রেতার নিজের কাছে। বিক্রেতার কপি ৫ বছর সংরক্ষণ করতে হয়।

পাঁচ বছর সংখ্যাটা হালকাভাবে নেওয়ার মতো নয়। ভ্যাট নিরীক্ষা সাধারণত পুরোনো বছরের হিসাব ধরে হয়, আর তখন যে কাগজটা খুঁজতে হয় সেটা তিন বছর আগের। প্যাডের কার্বন কপি বাক্সে জমতে থাকলে সেই খোঁজ কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায় — এটাই সফটওয়্যারে চালান তৈরি করার সবচেয়ে বাস্তব যুক্তি, ছাপার সৌন্দর্য নয়।

ক্রেতার বিআইএন কখন বাধ্যতামূলক

২৫,০০০ টাকার বেশি মূল্যের সরবরাহে ক্রেতার নাম, ঠিকানা এবং বিআইএন — তিনটিই বাধ্যতামূলক।

দুই পক্ষের যেকোনো একজনের বিআইএন না থাকলে চালানটি আইনত ত্রুটিপূর্ণ, এবং ক্ষতি দুই দিকেই যায়:

  • ক্রেতা সেই চালানের বিপরীতে উপকরণ কর রেয়াত (input VAT credit) নিতে পারেন না — অর্থাৎ তিনি যে ভ্যাটটা আপনাকে দিলেন, সেটা তাঁর নিজের হিসাবে সমন্বয় করতে পারবেন না। টাকাটা তাঁর খরচ হয়ে গেল।
  • বিক্রেতা, অর্থাৎ যিনি চালান ইস্যু করেছেন, জরিমানার ঝুঁকিতে পড়েন।

এই কারণেই যেসব ক্রেতা নিজেরা ভ্যাট নিবন্ধিত, তাঁরা বিআইএন ছাড়া চালান নিতে চান না। ছোট ভুল মনে হলেও এটি সরাসরি টাকার ক্ষতি, এবং সাধারণত ধরা পড়ে অনেক পরে — যখন সংশোধন করা কঠিন।

ফরমে যে ঘরগুলো থাকতেই হবে

উপরের অংশে বিক্রেতার তথ্য: নিবন্ধিত ব্যক্তির নাম, নিবন্ধিত ব্যক্তির বিআইএন, এবং চালানপত্র ইস্যুর ঠিকানা।

তারপর ক্রেতা ও ইস্যু সংক্রান্ত তথ্য: ক্রেতার নাম, ক্রেতার বিআইএন, ক্রেতার ঠিকানা, সরবরাহের গন্তব্যস্থল, যানবাহনের প্রকৃতি ও নম্বর, চালানপত্র নম্বর, ইস্যুর তারিখ এবং ইস্যুর সময়।

শেষে স্বাক্ষর অংশ: প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম, পদবী, স্বাক্ষর ও সীল।

একটা কথা আলাদা করে বলা দরকার, কারণ এটা নিয়ে প্রায়ই ভুল হয়: ক্রেতার ঠিকানা এবং যানবাহনের প্রকৃতি ও নম্বর — এই দুটি ঘর নির্ধারিত ফরমেরই অংশ। অনেকে ভাবেন এগুলো সফটওয়্যার কোম্পানির বাড়তি সংযোজন, এবং প্রিন্ট থেকে বাদ দিতে বলেন। বাদ দেওয়া যাবে না।

১১টি কলাম, এবং সেগুলো কী

পণ্যের তালিকার টেবিলে ১১টি কলাম থাকে:

কলাম শিরোনাম
ক্রমিক
পণ্য বা সেবার বর্ণনা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্র্যান্ড নামসহ)
সরবরাহের একক
পরিমাণ
একক মূল্য (টাকায়)
মোট মূল্য (টাকায়)
সম্পূরক শুল্কের হার
সম্পূরক শুল্কের পরিমাণ (টাকায়)
মূল্য সংযোজন করের হার / সুনির্দিষ্ট কর
১০ মূল্য সংযোজন কর / সুনির্দিষ্ট কর এর পরিমাণ (টাকায়)
১১ সকল প্রকার শুল্ক ও করসহ মূল্য

দুটি জিনিস খেয়াল রাখবেন। ৭ ও ৯ নম্বর কলাম হার, টাকা নয় — তাই ওই দুটিতে "টাকায়" লেখা থাকে না; ৮, ১০ ও ১১ নম্বর টাকার অঙ্ক। আর ৫ নম্বর কলামের একক মূল্য হলো সকল প্রকার কর ব্যতীত মূল্য — ফরমের নিচের পাদটীকায় এটাই বলা আছে। করসহ দাম বসিয়ে দিলে পুরো টেবিলের হিসাব মিলবে না।

কলামের সংখ্যা নিয়ে একটা বাস্তব ফাঁদ আছে — ১০ কলামের একটি পুরোনো সংস্করণ এখনও ইন্টারনেটে ঘুরছে এবং অনেকে সেটাই সঠিক ভেবে ছাপান। কোনটা চলতি ফরম আর কীভাবে চেনা যায়, সেটা আলাদা করে লেখা আছে আমাদের ব্লগে

যে ভুলগুলোতে চালান ধোপে টেকে না

যোগফল না মেলা। প্রতিটি সারিতে ৬ নম্বর কলাম আর ১০ নম্বর কলাম যোগ করলে ১১ নম্বর কলাম হতে হবে, এবং সব সারির যোগফল নিচের "সর্বমোট"-এর সঙ্গে মিলতে হবে। ছাপা কাগজে যোগফল না মিললে নিরীক্ষায় সেটাই প্রথম প্রশ্ন।

একাধিক পাতার চালানে উপরের অংশ না থাকা। চালান দুই পাতায় গেলে দ্বিতীয় পাতাতেও বিক্রেতা ও ক্রেতার তথ্য থাকতে হবে। যে পাতায় নিবন্ধিত ব্যক্তির নাম নেই, সেটি চালানই নয় — এক টুকরো কাগজ।

পাতার নম্বর না থাকা। প্রতিটি পাতায় "পাতা ১ / ৩" ধরনের নম্বর থাকা উচিত। এটি ছাড়া চালান সম্পূর্ণ কিনা প্রমাণ করা যায় না, এবং ইস্যুর পরে সারি বাদ দেওয়ার অভিযোগ খণ্ডন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রতি পাতায় কলাম নম্বর না থাকা। ১ থেকে ১১ পর্যন্ত নম্বরগুলো টেবিলের শিরোনামের অংশ, শুধু প্রথম পাতার জিনিস নয়। কলামগুলোকে আইনগতভাবে ওই নম্বর দিয়েই উল্লেখ করা হয়।

এক চালানে দুই সময়। পাতায় পাতায় আলাদা ইস্যুর সময় ছাপা হলে বোঝা যায় কাগজটা এক বসায় তৈরি হয়নি। একটি চালান, একটি সময়।

উৎসে কর কর্তনের ক্ষেত্রে

ফরমের নিচে একটি তারকা-চিহ্নিত পাদটীকা আছে: উৎসে কর্তনযোগ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে এই ফরমটি সমন্বিত কর চালানপত্র ও উৎসে কর কর্তন সনদপত্র হিসেবে বিবেচিত হবে।

অর্থাৎ সরকারি প্রতিষ্ঠান বা কর্তনকারী সত্তার কাছে সরবরাহ করলে আলাদা কোনো সনদ লাগে না — এই চালানটিই দুই কাজ করে। অনেক সরবরাহকারী এটা জানেন না এবং বাড়তি কাগজ খুঁজতে থাকেন।

প্যাডে না সফটওয়্যারে

হাতে লেখা প্যাডে মুশক ৬.৩ দেওয়া যায়, এবং অনেকে দেন। সমস্যা তিনটি, এবং তিনটিই সময়ের সঙ্গে বাড়ে।

প্রথমত, যোগফল। ১১ কলামের টেবিলে প্রতি সারিতে দুই জায়গায় গুণ আর এক জায়গায় যোগ — দিনে ত্রিশটা চালানে হাতে ভুল হবেই।

দ্বিতীয়ত, খুঁজে পাওয়া। পাঁচ বছরের সংরক্ষণ বাধ্যবাধকতার মানে হলো নির্দিষ্ট একটি চালান নির্দিষ্ট একদিন খুঁজে বের করতে হবে। বাক্সভর্তি কার্বন কপিতে সেটা ঘণ্টার কাজ।

তৃতীয়ত, ক্রেতার তথ্য পুনরায় লেখা। একই ক্রেতার নাম-ঠিকানা-বিআইএন প্রতিবার হাতে লিখলে বানান বদলায়, আর বিআইএন-এর একটি অঙ্ক এদিক-ওদিক হলে ক্রেতা রেয়াত হারান।

আমাদের সফটওয়্যার ক্যালভেন্টরি বিক্রির তথ্য থেকেই মুশক ৬.৩ চালান তৈরি করে — চলতি ১১ কলামের গেজেট ফরমে, প্রতি পাতায় বিক্রেতা ও ক্রেতার তথ্য ও পাতার নম্বরসহ, এবং বাংলা লেখা ঠিকভাবে ছেপে। ফরমের শর্তগুলো আমরা ভ্যাট আইন ও বিধিমালা থেকে বের করে নিয়েছি, অন্য কোনো বিক্রেতার টেমপ্লেট নকল করে নয় — এই কারণেই আমাদের ছাপা ফরমটি ভ্যাট কর্মকর্তার প্রত্যাশিত ফরমের সঙ্গে মেলে।

সংক্ষেপে

মুশক ৬.৩ একটি নির্ধারিত ফরম, ইচ্ছেমতো সাজানোর কাগজ নয়। ২৫,০০০ টাকার বেশি সরবরাহে ক্রেতার বিআইএন বাধ্যতামূলক, কমপক্ষে দুই কপি করতে হয়, বিক্রেতার কপি ৫ বছর রাখতে হয়, টেবিলে ১১টি কলাম, এবং প্রতিটি পাতা নিজে থেকেই সম্পূর্ণ হতে হবে।

আপনার প্রতিষ্ঠানে এখন কীভাবে চালান দেওয়া হচ্ছে সেটা নিয়ে কথা বলতে চাইলে 01717238363 নম্বরে ফোন করুন, অথবা আমাদের বার্তা পাঠান। সফটওয়্যার নিয়ে সাধারণ প্রশ্নের উত্তর এখানে দেওয়া আছে।