Autorior Technologies
Autorior Technologies

Blog

ডেড স্টক চেনার উপায় — যে মাল বসে আছে

Autorior Technologies
Sunday, September 6, 2026
ব্যবসা পরিচালনা

ডেড স্টক চেনার সবচেয়ে সরাসরি উপায় একটাই: প্রতিটি পণ্যের এখনকার স্টক আর গত কয়েক মাসের বিক্রি পাশাপাশি রাখুন। শুধু স্টকের তালিকা দেখে কোন মাল বসে আছে সেটি কোনোদিন বোঝা যায় না, কারণ চারশো পিস অনেক না কম — সেটি নির্ভর করে মাসে কত বিক্রি হয় তার উপর। যে মাল মাসে দুইশো যায়, তার চারশো স্টক মানে দুই মাসের মাল; যে মাল মাসে দশটা যায়, তার চারশো মানে তিন বছরের মাল। তালিকায় দুটো সংখ্যাই এক দেখায়।

ডেড স্টক মানে অবিক্রেয় মাল নয়

শব্দটা শুনে মনে হয় নষ্ট বা অচল মালের কথা বলা হচ্ছে। বাস্তবে বেশিরভাগ ডেড স্টক দিব্যি ভালো মাল — শুধু এত ধীরে যায় যে ওতে আটকে থাকা টাকাটা ব্যবসার কোনো কাজে আসছে না।

কাজের সংজ্ঞাটা এরকম: এখনকার স্টক ভাগ গড় মাসিক বিক্রি = কত মাসের মাল হাতে আছে।

এই একটি সংখ্যা বের করতে পারলে গুদামের প্রতিটি আইটেমকে সারিতে সাজানো যায়, আর তালিকার নিচের দিকটাই আসল সমস্যা। কোন সংখ্যার উপরে গেলে "বেশি" — সেটি ব্যবসাভেদে আলাদা। যে মাল কোম্পানি থেকে আসতে এক সপ্তাহ লাগে তার দুই মাসের স্টক রাখাই বাড়াবাড়ি; যেটি আমদানি হয়ে আসতে তিন মাস লাগে, তার চার মাসের স্টক স্বাভাবিক।

কিন্তু ছয় মাসের বেশি বিক্রি নেই অথচ স্টক পড়ে আছে — এটি প্রায় সব ব্যবসাতেই সমস্যা, ব্যতিক্রম মৌসুমি পণ্য।

একটা উদাহরণে পার্থক্যটা

ধরুন দুটি আইটেমের স্টক তালিকায় পাশাপাশি বসেছে, দুটোরই স্টক ৪০০।

গত ৩ মাসের বিক্রি গড় মাসিক কত মাসের স্টক
আইটেম ক ১৮০ · ২০০ · ১৯০ ১৯০ ২ মাসের কম
আইটেম খ ১৫ · ১২ · ১০ ১২ প্রায় ৩৩ মাস
বার চার্ট: দুটি আইটেমেরই স্টক ৪০০ পিস, কিন্তু আইটেম ক-এ ২ মাসের মাল আর আইটেম খ-এ ৩৩ মাসের
একই ৪০০ পিস — মাসিক বিক্রি দিয়ে ভাগ করলে পার্থক্যটা দাঁড়ায় ২ মাস বনাম ৩৩ মাস।

স্টক রিপোর্টে দুটোই "৪০০ পিস"। কিন্তু আইটেম খ-এ যে টাকা আটকে আছে, সেটি প্রায় তিন বছর ধরে ফিরবে — এবং তার আগেই হয়তো নতুন মডেল এসে যাবে।

আরেকটা জিনিস খেয়াল করার মতো: আইটেম খ-এর বিক্রি ১৫ থেকে ১২ থেকে ১০-এ নামছে। কমতে থাকা বিক্রি বসে থাকা স্টকের চেয়েও বড় সংকেত — এটি বলে দেয় সামনে আরও খারাপ হবে, তাই সিদ্ধান্ত এখনই নেওয়া দরকার।

স্টক নয়, টাকার অঙ্কে দেখুন

পিসের হিসাবে দেখলে অগ্রাধিকার ভুল হয়। পাঁচ হাজার পিস ছোট স্ক্রু বসে থাকা আর আশি পিস দামি ফিটিংস বসে থাকা — দ্বিতীয়টায় টাকা অনেক বেশি আটকা।

তাই তালিকাটা একবার ক্রয়মূল্যে দেখে নিন: প্রতিটি ধীরগতির আইটেমের স্টক গুণ ক্রয়দর। সংখ্যাটা প্রথমবার দেখলে বেশিরভাগ ব্যবসায়ীই অবাক হন, কারণ গুদামে ঘুরে বেড়ানোর সময় মালগুলো ছোট ছোট মনে হয় — একসঙ্গে যোগ করলে সেটি প্রায়ই একটা বড় অঙ্ক, এবং সেটিই আপনার আটকে থাকা মূলধন।

ওই টাকার উপর যে খরচগুলো চলতেই থাকে:

  • জায়গা — যে তাকটা চলতি মাল রাখতে পারত, সেটি এখন বসে থাকা মালের দখলে।
  • নষ্ট ও ক্ষতি — সময়ের সঙ্গে ভাঙা, মরচে, রং জ্বলে যাওয়া, প্যাকেট নষ্ট হওয়া।
  • দাম পড়ে যাওয়া — নতুন মডেল এলে পুরোনোটার দাম নিজে থেকেই কমে যায়।
  • সুযোগ হারানো — সবচেয়ে বড় খরচ, অথচ কোথাও লেখা থাকে না। ওই টাকায় চলতি মাল কিনলে সেটি বছরে কয়েকবার ঘুরে লাভ দিত।

যে ভুলটা আগে বাদ দিতে হবে: ভুয়া ডেড স্টক

কোনো মালকে "মৃত" ঘোষণা করার আগে একবার যাচাই করে নিন হিসাবটা আদৌ ঠিক কিনা। বাস্তবে অনেক আইটেম কাগজে বসে থাকা দেখায়, কিন্তু সমস্যাটা মালের নয়, এন্ট্রির।

নেগেটিভ স্টক। খাতায় যদি দেখায় মাইনাস সাত, তার মানে বাস্তবে মাল আছে অথচ কোথাও একটা এন্ট্রি বাদ পড়েছে — সাধারণত কেনার এন্ট্রি। এটি স্টকের সমস্যা নয়, হিসাবের ফাঁক, এবং একই ফাঁক অন্য আইটেমের স্টক বাড়িয়েও দেখাতে পারে।

একই জিনিস দুই নামে। এক পণ্য দুটো আলাদা নামে বা কোডে খোলা থাকলে বিক্রি একটার নামে হয় আর স্টক আরেকটার নামে জমে। প্রথমটিকে মনে হয় দ্রুত ফুরাচ্ছে, দ্বিতীয়টিকে মনে হয় মৃত। দুটোর কোনোটাই সত্যি নয়।

একাধিক গুদাম বা শাখা। এক শাখায় মাল পড়ে আছে, অন্য শাখায় ওটারই চাহিদা — কিন্তু কেউ জানে না। এটি ডেড স্টক নয়, এটি স্থানান্তরের কাজ।

খোলা বনাম প্যাকেট। যেসব ব্যবসায় বড় প্যাকেট ভেঙে খুচরা বিক্রি হয়, সেখানে খোলা অংশটা প্রায়ই হিসাবের বাইরে থেকে যায়।

এই চারটি বাদ দেওয়ার পর যা থাকে, সেটিই আসল ডেড স্টক — এবং তখন সিদ্ধান্তটা তথ্যের উপর দাঁড়ায়, অনুমানের উপর নয়।

ধরা পড়ার পর কী করবেন

সবচেয়ে জরুরি নিয়ম: দেরি করবেন না। ডেড স্টকের দাম সময়ের সঙ্গে কেবল কমে। আজ যেটি ত্রিশ শতাংশ ছাড়ে যেত, ছয় মাস পরে সেটি পঞ্চাশেও যাবে না। "দাম উঠলে ছাড়ব" — এই অপেক্ষায় অনেক মাল একেবারে অবিক্রেয় হয়ে যায়।

ছাড় দেওয়াটা ক্ষতি স্বীকার নয়, টাকা উদ্ধার। এই জায়গায় বেশিরভাগ ব্যবসায়ী আটকে যান, কারণ কম দামে বিক্রি করলে মনে হয় লোকসান হচ্ছে। কিন্তু হিসাবটা এভাবে করুন: ওই মাল বিক্রি না হলে আপনি পান শূন্য, আর টাকাটা আটকে থাকে। ত্রিশ শতাংশ ছাড়ে ছেড়ে দিলে সত্তর শতাংশ টাকা ফিরে আসে, এবং সেই টাকা দিয়ে যে চলতি মাল কেনা যায় সেটি কয়েক মাসেই ঘুরে লাভ দেয়। যা খরচ হয়ে গেছে সেটি ফেরত আসবে না — সিদ্ধান্ত নিতে হবে আজকের অবস্থা থেকে।

আর যা করা যায়:

  • বান্ডিল করুন — চলতি মালের সঙ্গে জুড়ে দিন, একসঙ্গে দামটা আকর্ষণীয় হয়।
  • কোম্পানিকে ফেরত বা বদল — অনেক সরবরাহকারী নেন, বিশেষ করে যদি নিয়মিত ক্রেতা হন। জিজ্ঞেস না করলে জানা যায় না।
  • অন্য ব্যবসায়ীর সঙ্গে অদলবদল — আপনার কাছে যেটি বসে আছে, অন্য এলাকায় সেটির চাহিদা থাকতে পারে।
  • বিক্রয়কর্মীদের ওই মালেই উৎসাহ দিন — তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই যেটি সহজে বিক্রি হয় সেটিই বেচেন।
  • সবচেয়ে জরুরি: ওই মাল আর কিনবেন না। শুনতে সহজ, কিন্তু ব্যবস্থা করে না রাখলে পরের বার অর্ডারের সময় ঠিকই আবার চলে আসে।

আবার যেন না জমে

ডেড স্টক পরিষ্কার করা একবারের কাজ, কিন্তু জমা বন্ধ করা নিয়মের কাজ।

রি-অর্ডার লেভেল অনুমান থেকে নয়, বিক্রির গতি থেকে ঠিক করুন। সহজ নিয়ম: মাল আসতে যত দিন লাগে, সেই ক'দিনের বিক্রি, তার সঙ্গে কিছুটা বাড়তি। যে মাল মাসে ২০০ যায় এবং আসতে ১৫ দিন লাগে, তার জন্য ১০০ পিসের আশপাশে রি-অর্ডার লেভেল যুক্তিসংগত — ৮০০ নয়।

বড় ছাড়ের লোভে বড় লট কেনার আগে হিসাব করুন। দশ শতাংশ বেশি ছাড় পেয়ে যদি আট মাসের মাল একসঙ্গে তুলতে হয়, তাহলে ছাড়ের চেয়ে আটকে থাকা টাকার ক্ষতি বেশি। ছাড়টা একবারের, আটকে থাকাটা আট মাসের।

নতুন আইটেম অল্প করে আনুন। কোনো নতুন পণ্য চলবে কিনা সেটি আগে থেকে কেউ জানে না — চললে আবার আনা যায়, না চললে ক্ষতি ছোট থাকে।

তিন মাসে অন্তত একবার তালিকাটা দেখুন। ডেড স্টক এক দিনে তৈরি হয় না, তাই এক দিনে ধরাও পড়ে না। নিয়মিত না দেখলে যেদিন চোখে পড়ে, সেদিন অনেক দেরি হয়ে গেছে।

আমাদের সফটওয়্যারে এই কাজগুলো কীভাবে হয়

ক্যালভেন্টরি-তে এই তুলনাগুলো আলাদা করে বের করতে হয় না, রিপোর্ট আকারেই আছে:

  • স্টক বনাম বিক্রি — প্রতিটি আইটেমের বর্তমান স্টকের পাশে চলতি মাস ও আগের তিন মাসের বিক্রি এক সারিতে। এই লেখার প্রথম টেবিলটা এখানে নিজে থেকেই তৈরি হয়ে যায়।
  • স্টকের টাকার হিসাব — নির্দিষ্ট তারিখে কোন মালে কত টাকা বসে আছে, ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্য দুই দিক থেকেই। গুদাম, ব্র্যান্ড বা ক্যাটাগরি ধরে আলাদা করে দেখা যায়।
  • রি-অর্ডার তালিকা — কোন মাল রি-অর্ডার লেভেলে নেমে এসেছে এবং কতটা কম আছে, যাতে চলতি মালটাই ঠিক মৌসুমের মুখে শেষ না হয়ে যায়।
  • নেগেটিভ স্টক — যেখানে হিসাবে ফাঁক আছে, সেই আইটেমগুলো আলাদা করে দেখায় — ডেড স্টক যাচাইয়ের আগে এটিই প্রথম দেখার জিনিস।
  • পণ্য অনুযায়ী রিপোর্ট ও পণ্যের খতিয়ান — একটি আইটেমের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি কেনা, বিক্রি ও ফেরত, গুদাম ধরে আলাদা।
  • ফেরত ও অর্ডারের হিসাব, এবং মার্জিনসহ বিক্রয় রিপোর্ট — কোন মালে আসলে লাভ আছে, শুধু কোনটা বেশি যায় তা নয়।

রিপোর্টগুলো এক্সেলে নেওয়া যায়, একাধিক শাখা থাকলে শাখাভিত্তিক দেখা যায়, এবং সফটওয়্যারটি পুরোপুরি বাংলায়।

পরের ধাপ

একটা প্রশ্ন দিয়ে শুরু করুন: আপনার গুদামে এই মুহূর্তে কোন দশটি আইটেমে সবচেয়ে বেশি টাকা বসে আছে, এবং তার মধ্যে কোনগুলোর গত তিন মাসে বিক্রি নেই? উত্তরটা বের করতে যদি এক ঘণ্টার বেশি লাগে, তাহলে বাস্তবে ওটা কেউ বের করে না — আর সেটাই ডেড স্টক জমার সবচেয়ে সাধারণ কারণ।

আপনার এখনকার স্টকের তালিকা নিয়ে আলাপ করতে 01717238363 নম্বরে ফোন করুন, অথবা আমাদের বার্তা পাঠান। খরচ, পুরোনো হিসাব স্থানান্তর ও সহায়তা নিয়ে সাধারণ প্রশ্নের উত্তর এখানে আছে, আর স্টক, বাকি ও লাভ নিয়ে অন্যান্য লেখা আমাদের ব্লগে