ভ্যাট চালানে ১১টা কলাম না ১০টা? সঠিক ফরম কোনটি
চলতি মুশক ৬.৩ কর চালানপত্রের পণ্য তালিকায় ১১টি কলাম। ১০ কলামের যে ফরমটি এখনও অনেক জায়গায় পাওয়া যায়, সেটি আগের সংস্করণ — তাতে ৭ নম্বর অবস্থানের "সম্পূরক শুল্কের হার" কলামটি নেই, এবং তার পরের সব কলামের নম্বর এক ঘর করে সরে গেছে। কলামের নম্বর ফরমের গায়ে ছাপা থাকে এবং আইনগতভাবে ওই নম্বর ধরেই কলামগুলোর উল্লেখ করা হয়, তাই ভুল সংখ্যা নিছক সাজসজ্জার ব্যাপার নয়।
কেন দুই রকম ফরম ঘুরছে
মুশক ৬.৩ ফরমটি সংশোধিত হয়েছে, কিন্তু পুরোনো ফাইলগুলো ইন্টারনেট থেকে মুছে যায়নি। ১০ কলামের সংস্করণটি এখনও নানা জায়গায় ডাউনলোডযোগ্য অবস্থায় আছে — এমনকি সরকারি ওয়েবসাইটেও সংশোধনীর অংশবিশেষ হিসেবে আলাদা ফাইলে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
ফল যা হয়: প্রেসে প্যাড ছাপাতে গিয়ে যে নমুনা দেওয়া হয় সেটি পুরোনো, আর সফটওয়্যারে টেমপ্লেট বানানোর সময় ডেভেলপার যে ফাইলটি খুঁজে পান সেটিও পুরোনো। কেউ ইচ্ছে করে ভুল করছেন না। ভুল ফাইলটাই বেশি সহজলভ্য।
কোনটা হাতে আছে, চেনার সবচেয়ে দ্রুত উপায়
কলাম গুনে ফেলুন। এটাই সবচেয়ে দ্রুত সংকেত, তারিখ বা ফাইলের নাম দেখার চেয়ে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য।
তারপর ৭ নম্বর ঘরটা দেখুন। চলতি ফরমে সেখানে থাকে সম্পূরক শুল্কের হার। পুরোনো ফরমে ৭ নম্বরে সরাসরি চলে আসে মূল্য সংযোজন করের হার — অর্থাৎ সম্পূরক শুল্কের হারের জন্য কোনো ঘরই নেই, শুধু পরিমাণের ঘর আছে।
| চলতি (১১ কলাম) | পুরোনো (১০ কলাম) | |
|---|---|---|
| ৭ নম্বর কলাম | সম্পূরক শুল্কের হার | সম্পূরক শুল্কের পরিমাণ |
| সম্পূরক শুল্কের হারের ঘর | আছে | নেই |
| শেষ কলামের নম্বর | ১১ | ১০ |
হার আর পরিমাণ — এই পার্থক্যটাই আসল
চলতি ফরমে কর সংক্রান্ত ঘরগুলো জোড়ায় জোড়ায় সাজানো: আগে হার, তারপর পরিমাণ।
- ৭ — সম্পূরক শুল্কের হার
- ৮ — সম্পূরক শুল্কের পরিমাণ (টাকায়)
- ৯ — মূল্য সংযোজন করের হার / সুনির্দিষ্ট কর
- ১০ — মূল্য সংযোজন কর / সুনির্দিষ্ট কর এর পরিমাণ (টাকায়)
৭ ও ৯ নম্বর হার, টাকা নয় — তাই ওই দুই কলামের শিরোনামে "টাকায়" কথাটি নেই। ৮, ১০ ও ১১ নম্বর টাকার অঙ্ক। ছাপা ফরমে যদি হারের ঘরেও টাকার চিহ্ন বা দুই ঘর দশমিক থাকে, বুঝবেন টেমপ্লেটটি বুঝে বানানো হয়নি।
পুরোনো ১০ কলামের ফরমে হারের ঘরটাই বাদ পড়ে গিয়েছিল, তাই সম্পূরক শুল্কের হার কোথাও লেখার জায়গা ছিল না। এটি নিছক একটি কলাম কম নয় — এটি একটি তথ্য কম।
ভুল সংখ্যায় ছাপালে বাস্তবে কী হয়
কলামের নম্বর মেলে না। নিরীক্ষা বা চিঠিপত্রে "৯ নম্বর কলাম" বলতে চলতি ফরমে বোঝায় মূসকের হার, আর পুরোনোটিতে বোঝায় মূসকের পরিমাণ। একই কথায় দুই পক্ষ দুই জিনিস বুঝলে ব্যাখ্যা করতে সময় যায়, এবং ব্যাখ্যা করতে হওয়াটাই একটা খরচ।
সম্পূরক শুল্কের হার দেখানোর জায়গা থাকে না। যেসব পণ্যে সম্পূরক শুল্ক প্রযোজ্য, সেগুলোর ক্ষেত্রে ফরমটি অসম্পূর্ণ হয়ে যায়।
প্যাড আবার ছাপাতে হয়। এটাই সবচেয়ে সাধারণ পরিণতি — কয়েক হাজার কপি ছাপানোর পর জানা যায় ফরমটি পুরোনো।
প্রেসে প্যাড ছাপানোর আগে যা মিলিয়ে নেবেন
কয়েক হাজার কপি ছাপানোর পর ভুল ধরা পড়লে খরচটা কাগজের নয়, সময়ের। ছাপতে দেওয়ার আগে নমুনাটি নিয়ে এই ছয়টি জিনিস দেখে নিন — পাঁচ মিনিটের কাজ।
- কলাম গুনুন। পণ্যের টেবিলে ১১টি কলাম আছে তো?
- ৭ নম্বর ঘরে কী লেখা? থাকা উচিত "সম্পূরক শুল্কের হার"।
- হারের ঘরে টাকার চিহ্ন নেই তো? ৭ ও ৯ নম্বর কলামের শিরোনামে "টাকায়" কথাটি থাকার কথা নয়।
- মাথার লাইনটি আছে? বিধি ৪০ এর উপ-বিধি (১) এর দফা (গ) ও দফা (চ) দ্রষ্টব্য — এই লাইনটি ছাপা না থাকলে কাগজটি নির্ধারিত ফরম নয়।
- ক্রেতার ঠিকানা এবং যানবাহনের প্রকৃতি ও নম্বরের ঘর আছে? এ দুটি ফরমেরই অংশ, বাড়তি সংযোজন নয়। প্রায়ই এগুলো বাদ দিতে বলা হয়।
- স্বাক্ষর অংশ পূর্ণ আছে? দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম, পদবী, স্বাক্ষর ও সীল — চারটিই।
"ঠিক করে দিচ্ছি" বলে যেন কেউ ১০-এ নামিয়ে না দেয়
এটি বাস্তবে ঘটে, এবং সদিচ্ছা থেকেই ঘটে। কারও কাছে পুরোনো ফরমের ছাপা কপি আছে, তিনি সেটির সঙ্গে মিলিয়ে দেখে বলেন সফটওয়্যারে একটা কলাম বেশি আছে, এবং সেটি সরিয়ে দিতে বলেন।
সরালে ফরমটি ভুল হয়ে যাবে। কলাম গুনে দেখা এবং ৭ নম্বর ঘরে কী আছে সেটা দেখাই যথেষ্ট — তর্কের দরকার নেই।
আমাদের নিজেদের নিয়ম হলো: নতুন করে যাচাই করার সময় এনবিআর-এর প্রকাশিত ফাইলকে অগ্রাধিকার দিন, এবং সবার আগে কলাম গুনুন। কোন সংস্করণটি হাতে আছে, ওটাই সবচেয়ে দ্রুত বলে দেয়।
আমরা কী করি
ক্যালভেন্টরি-তে মুশক ৬.৩ চালান তৈরি হয় চলতি ১১ কলামের গেজেট ফরমে। ফরমের কাঠামো, ঘরের বাংলা নাম এবং কলামের ক্রম আমরা সরাসরি চলতি বাংলা ফরম থেকে মিলিয়ে নিয়েছি — কোনো বিক্রেতার টেমপ্লেট নকল করে নয়। কোন সংস্করণটি সঠিক এবং কেন, সেটি আমাদের নথিতে লিখে রাখা আছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ভুলবশত "সংশোধন" করে ১০-এ না নামায়।
মুশক ৬.৩ ফরমটিতে সব মিলিয়ে কী কী থাকে, কখন ক্রেতার বিআইএন বাধ্যতামূলক আর কয় কপি রাখতে হয় — সেসব আমাদের ব্লগের আলাদা লেখায় বিস্তারিত আছে।
আপনার প্যাড বা সফটওয়্যারের চালান চলতি ফরমের সঙ্গে মেলে কিনা যাচাই করতে চাইলে 01717238363 নম্বরে ফোন করুন, অথবা বার্তা পাঠান। একটি নমুনা চালান দেখলেই বলে দেওয়া যায়।